অস্তিত্ব সংকটে মনোহরগঞ্জের মহেন্দ্র খাল
- আপডেট সময় : ০৬:৩৮:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৮০৭ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হাসনাবাদ মহেন্দ্র খাল এখন অস্তিত্ব সংকটে। ডাকাতিয়া নদীর শাখা এ খালের বিভিন্ন পয়েন্টে গড়ে উঠেছে অবৈধস্থাপনা। এতে দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী খালটি। ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে দূষিত হচ্ছে খালের পানি। এ ছাড়া দীর্ঘদিন থেকে দখলদাররা খাল দখল করে ইমারত নির্মাণ করে ব্যবসা ও বসবাস করে আসছেন।ফলে বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। পানি প্রবাহ না থাকায় বসতবাড়ি, মাছের ঘের ও ফসলি জমি তলিয়ে যাচ্ছে পানির নিচে। শুকনা মৌসুমে সেচ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।আর সাধারণ মানুষের চলাফেরা, জীবনযাপন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দখলদারদের থাবায় দিন দিন সংকুচিত হয়ে গেছে খালটি। খালের দুই পারে দোকান আর দোকান। প্রভাবশালীরা খাল দখল করে দোকানঘর তৈরি করে ভাড়া দিয়েছেন। শুধু দখলই নয়, আশপাশের মানুষ আর দখলদারদের ফেলা বর্জ্যে দূষণের মাত্রা ছাড়িয়েছে খালটি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,খাল রক্ষায় কেউ মুখ খুললেই তার ওপর আসে নানাবিধ চাপ। অনেকেই ভয়-ভীতির কারণে চুপ করে থাকেন। অথচ ক্ষতিটা হয়েছে সাধারণ মানুষের। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও ¯’স্থানীয় প্রভাবশালীদের দাপটে দখলবাজরা দিনে দিনে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ
খালের ওপর ব্যবসা করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন অথচ খাল হারিয়ে মানুষের জীবন ডুবে যাচ্ছে দুর্ভোগে।
আবদুর রহীম,রাশেদ,আলী জাকের নামে ¯’স্থানীয় একাধিক কৃষক জানান, এই খালের পানি দিয়ে তাঁরা ইরি-বোরো আবাদ করেছেন। খালটি পর্যায়ক্রমে দখল হয়ে যাওয়ায় এখন বাধ্য হয়ে কৃষকরা পুকুর-ডোবা বা মাটির নিচ থেকে ডিপ টিউবওয়েলের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করে চাষাবাদের কাজ সারছেন। অনেকে চাষাবাদে অতিরিক্ত খরচের কারণে কৃষিকাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, হাসনাবাদ মহেন্দ্র খাল এর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে পানি চলাচলের পথ ফিরিয়ে দিতে হবে এবং এই কাজে জড়িতদের বির“দ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবী জানান তারা।
এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজালা পারভীন র“হি বলেন, বিভিন্ন মাধ্যম থেকে খবর পেয়েছি, দখল-দূষণের শিকার হয়েছে খালটি। স্থানীয় খালের জায়গায় কেউ স্থাপনা তৈরি করলে উচ্ছেদ সহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
















