ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
নাথেরপেটুয়া মডেল স্কুল কর্তৃক আয়োজিত ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত। নাথেরপেটুয়ায় বৈশাখী মেলা পুনরায় আয়োজনের সম্ভাবনা: স্থানীয়দের আগ্রহ ও প্রত্যাশা নীরব হৃদয়ের আত্মিক জাগরণ হায় এ বিচ্ছেদ কতই না কঠিন।  নাথেরপেটুয়া শামসুল মাদ্রাসা সারাদেশে মেধা তালিকায় ৩১ ও ৫৪ তম স্থান লাভ করে আবারও শীর্ষে ঈদের আগমনী বার্তা। পবিত্র মাহে রমজান: আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও বদরের চেতনা মাহে রমাদান, আত্নগঠনের সুবর্ণ সুযোগ। ডজনখানেক নেতাকর্মীর দলত্যাগ ও অসংখ্য নেতাকর্মীর অনাস্থায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নতুন ম্যান্ডেট, নতুন পথচলা,বিএনপির কাছে জনআকাঙ্ক্ষা ও আগামীর বাংলাদেশ

মানুষ কেন অল্পতেই মারা যায় ?

সাহিত্য প্রতিবেদন
  • আপডেট সময় : ১০:৪৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ৭৯০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এক সময় বলা হতো,মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ। 

আধুনিক চিকিৎসা, উন্নত প্রযুক্তি, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা,সবই মানুষের জীবনকে দীর্ঘ ও নিরাপদ করার কথা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। আজকাল আমরা প্রায়ই শুনি,অল্প বয়সে হৃদ্‌রোগে মৃত্যু, হঠাৎ স্ট্রোকে প্রাণহানি, কিংবা সামান্য অসুস্থতাতেই মানুষের জীবন থেমে যাওয়া। প্রশ্ন জাগে মানুষ কেন আজ অল্পতেই মারা যায়?

★অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন

বর্তমান জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অনিয়মিত জীবনধারা।জাঙ্ক ফুড, অতিরিক্ত তেল-মসলা, চিনি ও লবণ গ্রহণ শরীরকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দিচ্ছে। শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া, দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

★মানসিক চাপ ও উদ্বেগ

আজকের মানুষ শারীরিকের চেয়ে মানসিকভাবে বেশি ক্লান্ত। চাকরি, পড়াশোনা, পারিবারিক দায়িত্ব, সামাজিক চাপ, সব মিলিয়ে মানসিক চাপ বেড়েই চলেছে। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনছে।

★পরিবেশ দূষণ,

বায়ু, পানি ও শব্দ দূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বিষাক্ত বাতাস ফুসফুস ও হৃদ্‌যন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত করছে, দূষিত পানি বিভিন্ন জটিল রোগের জন্ম দিচ্ছে। শহরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষ এই ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি।

★চিকিৎসায় অবহেলা ও দেরি

অনেকে অসুস্থ হলেও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে দেরি করেন। আবার কেউ কেউ ভুল চিকিৎসা বা অনলাইন পরামর্শের উপর নির্ভর করেন। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পাওয়াই অনেক ক্ষেত্রে অকাল মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

★সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়

পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়ছে। একাকীত্ব, অবহেলা ও মানবিক সম্পর্কের অভাব মানুষকে মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে। সামাজিক সহানুভূতির অভাবও মানুষের জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

অবশেষে বলবো,মানুষ অল্পতেই মারা যায়,এটি শুধু চিকিৎসা সমস্যার ফল নয়; এটি আমাদের জীবনধারা, মানসিকতা ও সমাজব্যবস্থার প্রতিফলন। সুস্থ জীবনযাপন, মানসিক প্রশান্তি, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং সচেতন সমাজ গড়ে তুলতে পারলেই অকাল মৃত্যুর সংখ্যা কমানো সম্ভব। এখনই সময়—নিজের জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবার।

মোঃ সাফায়েত আহম্মেদ রাফি 

সিটি ইউনিভার্সিটি 

কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (ব্যাচ: ৬৪)

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মানুষ কেন অল্পতেই মারা যায় ?

আপডেট সময় : ১০:৪৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

এক সময় বলা হতো,মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ। 

আধুনিক চিকিৎসা, উন্নত প্রযুক্তি, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা,সবই মানুষের জীবনকে দীর্ঘ ও নিরাপদ করার কথা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। আজকাল আমরা প্রায়ই শুনি,অল্প বয়সে হৃদ্‌রোগে মৃত্যু, হঠাৎ স্ট্রোকে প্রাণহানি, কিংবা সামান্য অসুস্থতাতেই মানুষের জীবন থেমে যাওয়া। প্রশ্ন জাগে মানুষ কেন আজ অল্পতেই মারা যায়?

★অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন

বর্তমান জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অনিয়মিত জীবনধারা।জাঙ্ক ফুড, অতিরিক্ত তেল-মসলা, চিনি ও লবণ গ্রহণ শরীরকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দিচ্ছে। শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া, দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

★মানসিক চাপ ও উদ্বেগ

আজকের মানুষ শারীরিকের চেয়ে মানসিকভাবে বেশি ক্লান্ত। চাকরি, পড়াশোনা, পারিবারিক দায়িত্ব, সামাজিক চাপ, সব মিলিয়ে মানসিক চাপ বেড়েই চলেছে। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনছে।

★পরিবেশ দূষণ,

বায়ু, পানি ও শব্দ দূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বিষাক্ত বাতাস ফুসফুস ও হৃদ্‌যন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত করছে, দূষিত পানি বিভিন্ন জটিল রোগের জন্ম দিচ্ছে। শহরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষ এই ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি।

★চিকিৎসায় অবহেলা ও দেরি

অনেকে অসুস্থ হলেও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে দেরি করেন। আবার কেউ কেউ ভুল চিকিৎসা বা অনলাইন পরামর্শের উপর নির্ভর করেন। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পাওয়াই অনেক ক্ষেত্রে অকাল মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

★সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়

পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়ছে। একাকীত্ব, অবহেলা ও মানবিক সম্পর্কের অভাব মানুষকে মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে। সামাজিক সহানুভূতির অভাবও মানুষের জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

অবশেষে বলবো,মানুষ অল্পতেই মারা যায়,এটি শুধু চিকিৎসা সমস্যার ফল নয়; এটি আমাদের জীবনধারা, মানসিকতা ও সমাজব্যবস্থার প্রতিফলন। সুস্থ জীবনযাপন, মানসিক প্রশান্তি, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং সচেতন সমাজ গড়ে তুলতে পারলেই অকাল মৃত্যুর সংখ্যা কমানো সম্ভব। এখনই সময়—নিজের জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবার।

মোঃ সাফায়েত আহম্মেদ রাফি 

সিটি ইউনিভার্সিটি 

কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (ব্যাচ: ৬৪)