ঢাকা ০৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
নাথেরপেটুয়া মডেল স্কুল কর্তৃক আয়োজিত ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত। নাথেরপেটুয়ায় বৈশাখী মেলা পুনরায় আয়োজনের সম্ভাবনা: স্থানীয়দের আগ্রহ ও প্রত্যাশা নীরব হৃদয়ের আত্মিক জাগরণ হায় এ বিচ্ছেদ কতই না কঠিন।  নাথেরপেটুয়া শামসুল মাদ্রাসা সারাদেশে মেধা তালিকায় ৩১ ও ৫৪ তম স্থান লাভ করে আবারও শীর্ষে ঈদের আগমনী বার্তা। পবিত্র মাহে রমজান: আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও বদরের চেতনা মাহে রমাদান, আত্নগঠনের সুবর্ণ সুযোগ। ডজনখানেক নেতাকর্মীর দলত্যাগ ও অসংখ্য নেতাকর্মীর অনাস্থায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নতুন ম্যান্ডেট, নতুন পথচলা,বিএনপির কাছে জনআকাঙ্ক্ষা ও আগামীর বাংলাদেশ

ডজনখানেক নেতাকর্মীর দলত্যাগ ও অসংখ্য নেতাকর্মীর অনাস্থায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

বিশেষ প্রতিবেদন
  • আপডেট সময় : ১২:৪৭:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৭৫ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান ধরে রেখেছে। নীতিনিষ্ঠ ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতির দাবির মাধ্যমে দলটি নিজেদের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জোট ত্যাগ ও নির্বাচনে ভরাডুবির পর ডজনখানেক নেতাকর্মীর দলবর্জন এবং আরও অনেকের অনাস্থা নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এটি কি কেবল সাময়িক অস্থিরতা, নাকি দীর্ঘদিনের জমে থাকা অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ?

 

আদর্শভিত্তিক রাজনীতির দাবিদার একটি দলে যদি কর্মীদের মধ্যেই আস্থার সংকট তৈরি হয়, তবে তার কারণ গভীরভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে পরিবর্তন আসবে, নাকি গতানুগতিক ধারাই চলবে,

এই প্রশ্ন এখন প্রাসঙ্গিক।

 

ছোটবেলা থেকে রাজনীতি করার তীব্র আগ্রহ থাকলেও বর্তমান বাংলাদেশের ইসলামী রাজনীতিতে সুস্পষ্ট ও বাস্তবমুখী রূপরেখার অভাব আমাকে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে রেখেছে। তবে রাজনীতি আমার অপছন্দের বিষয় নয়; বরং আমি বিশ্বাস করি, ইতিবাচক ও নীতিনিষ্ঠ রাজনীতিই সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম মাধ্যম।

ছোটবেলা থেকে দলটির নেতাকর্মী ও বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বের সান্নিধ্যে থেকেও আমি ব্যক্তিগতভাবে সদস্য হইনি। কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল দলের নির্দিষ্ট মিশন ও দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা নিয়ে আমার গভীর ভাবনা ও সংশয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রশ্নগুলো আরও স্পষ্ট হয়েছে। আজ যখন কিছু নেতাকর্মী দল ছাড়ছেন বা অনাস্থা প্রকাশ করছেন, তখন মনে হয়,দেরি হলেও দলীয় নেতাকর্মী ও কর্মী সমর্থকরা বুঝতে শুরু করেছেন, যে দলীয় নেতৃত্ব আর বাস্তব মুখী সিদ্ধান্ত আরো কতটা কৌশলগতা এবং দূরদর্শী হওয়া দরকার, পাশাপাশি রাজনীতিকে শুধু ইবাদত মনে করে মৌসুমী বা নির্বাচনী সময় মাঠে থেকে অন্য সময় মাঠ থেকে দূরে থাকা কতটা অপরিণামদর্শী, মানুষ কি তবে বুঝতে শুরু করেছেন? নাকি এটি কেবল ক্ষণিকের প্রতিক্রিয়া?

 

রাজনীতিতে পরিবর্তন অনিবার্য। প্রশ্ন হলো,পরিবর্তন কি আত্মসমালোচনা ও সংস্কারের মধ্য দিয়ে আসবে, নাকি পুরোনো কাঠামো আঁকড়ে ধরে রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে? আদর্শের দাবি যদি সত্যিই শক্তিশালী হয়, তবে নেতৃত্বেরও উচিত সময়ের ভাষা বোঝা এবং আস্থার সংকট কাটাতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া।

 

আরিফুল ইসলাম মাহফুজ 

শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ডজনখানেক নেতাকর্মীর দলত্যাগ ও অসংখ্য নেতাকর্মীর অনাস্থায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ১২:৪৭:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান ধরে রেখেছে। নীতিনিষ্ঠ ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতির দাবির মাধ্যমে দলটি নিজেদের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জোট ত্যাগ ও নির্বাচনে ভরাডুবির পর ডজনখানেক নেতাকর্মীর দলবর্জন এবং আরও অনেকের অনাস্থা নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এটি কি কেবল সাময়িক অস্থিরতা, নাকি দীর্ঘদিনের জমে থাকা অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ?

 

আদর্শভিত্তিক রাজনীতির দাবিদার একটি দলে যদি কর্মীদের মধ্যেই আস্থার সংকট তৈরি হয়, তবে তার কারণ গভীরভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে পরিবর্তন আসবে, নাকি গতানুগতিক ধারাই চলবে,

এই প্রশ্ন এখন প্রাসঙ্গিক।

 

ছোটবেলা থেকে রাজনীতি করার তীব্র আগ্রহ থাকলেও বর্তমান বাংলাদেশের ইসলামী রাজনীতিতে সুস্পষ্ট ও বাস্তবমুখী রূপরেখার অভাব আমাকে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে রেখেছে। তবে রাজনীতি আমার অপছন্দের বিষয় নয়; বরং আমি বিশ্বাস করি, ইতিবাচক ও নীতিনিষ্ঠ রাজনীতিই সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম মাধ্যম।

ছোটবেলা থেকে দলটির নেতাকর্মী ও বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বের সান্নিধ্যে থেকেও আমি ব্যক্তিগতভাবে সদস্য হইনি। কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল দলের নির্দিষ্ট মিশন ও দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা নিয়ে আমার গভীর ভাবনা ও সংশয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রশ্নগুলো আরও স্পষ্ট হয়েছে। আজ যখন কিছু নেতাকর্মী দল ছাড়ছেন বা অনাস্থা প্রকাশ করছেন, তখন মনে হয়,দেরি হলেও দলীয় নেতাকর্মী ও কর্মী সমর্থকরা বুঝতে শুরু করেছেন, যে দলীয় নেতৃত্ব আর বাস্তব মুখী সিদ্ধান্ত আরো কতটা কৌশলগতা এবং দূরদর্শী হওয়া দরকার, পাশাপাশি রাজনীতিকে শুধু ইবাদত মনে করে মৌসুমী বা নির্বাচনী সময় মাঠে থেকে অন্য সময় মাঠ থেকে দূরে থাকা কতটা অপরিণামদর্শী, মানুষ কি তবে বুঝতে শুরু করেছেন? নাকি এটি কেবল ক্ষণিকের প্রতিক্রিয়া?

 

রাজনীতিতে পরিবর্তন অনিবার্য। প্রশ্ন হলো,পরিবর্তন কি আত্মসমালোচনা ও সংস্কারের মধ্য দিয়ে আসবে, নাকি পুরোনো কাঠামো আঁকড়ে ধরে রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে? আদর্শের দাবি যদি সত্যিই শক্তিশালী হয়, তবে নেতৃত্বেরও উচিত সময়ের ভাষা বোঝা এবং আস্থার সংকট কাটাতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া।

 

আরিফুল ইসলাম মাহফুজ 

শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী