নাথেরপেটুয়ার পরানপুর নূরানী মাদ্রাসায় মোহতামিম কে লাঞ্ছিত, এলাকায় উত্তেজনা
- আপডেট সময় : ১১:৫৬:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫ ১২৮৭ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথেরপেটুয়ার পরানপুর নূরানী মাদ্রাসার পরিচালক কে লাঞ্ছনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা যায়, মাদ্রাসার দীর্ঘদিনের শিক্ষক ও মোহতামিম মাওলানা আতাউল্লাহ (লেমুয়ার হুজুর)শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানোন্নয়নের স্বার্থে সীমিত বেত্রাঘাতের মাধ্যমে শাসন করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীর অভিভাবক ফরিদ হোসেন এলাকাবাসীর সামনে প্রকাশ্যে শিক্ষককে হেনস্তা ও মারধর করেন।
ঘটনার পর মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত মাওলানা আতাউল্লাহ সাহেব মাদ্রাসা ছুটি দিয়ে বাড়িতে চলে যান। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে সুনামের সাথে দ্বীন শিক্ষার খেদমত করে আসা এ শিক্ষককে এমনভাবে অসম্মানিত করার ঘটনায় এলাকাজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষ ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “একজন শিক্ষক সমাজে সবচেয়ে মর্যাদাশীল ব্যক্তি। তাকে এভাবে হেনস্তা করা শিক্ষাক্ষেত্রের জন্য কলঙ্কজনক।” তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও উপযুক্ত বিচারের দাবিও জানান।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত ফরিদ হোসেন অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। তবে এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকার সচেতন মহল প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষককে যথাযথ মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
হুজুরের একজন সাবেক ছাত্র হাফেজ আব্দুল্লাহ আল মামুন মুক্তশব্দ কে বলেন
আমাদের প্রিয় শিক্ষক মাওলানা আতাউল্লাহ সাহেব দীর্ঘ ২০ বছর ধরে নাথেরপেটুয়ার পরানপুর নূরানী মাদ্রাসায় দ্বীন শিক্ষা দিয়ে আসছেন। তিনি সবসময় আমাদেরকে পিতার মতো স্নেহ ও শাসন করেছেন। শিক্ষক সমাজের আলো, তাদের সম্মান ক্ষুণ্ণ করা মানে আমাদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া।
আমরা দুঃখ ও ক্ষোভের সাথে দেখেছি, সম্প্রতি একজন অভিভাবক বিনা কারণে আমাদের প্রিয় হুজুর কে প্রকাশ্যে হেনস্তা ও মারধর করেছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাকে আমরা শিক্ষার্থীরা তীব্র নিন্দা জানাই।
আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—একজন শিক্ষকের সম্মান রক্ষা করা আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। যারা এই অপমানজনক ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
আমাদের দাবি, শিক্ষককে যথাযথ সম্মান ও নিরাপত্তা প্রদান করা হোক এবং ভবিষ্যতে যেন আর কোনো শিক্ষক এভাবে অপমানিত না হন, তার জন্য প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিক।











