নতুন ম্যান্ডেট, নতুন পথচলা,বিএনপির কাছে জনআকাঙ্ক্ষা ও আগামীর বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০৯:৪৮:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১০৭ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সাধারণ মানুষের রায় একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হতে যাওয়া বিএনপির কাছে জনগণের পাহাড়সম প্রত্যাশা এখন আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।
নির্বাচন পরবর্তী সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো—রাজনীতিতে প্রতিহিংসার সংস্কৃতির স্থায়ী অবসান। মানুষ এমন এক ‘সুন্দর দেশ’ চায় যেখানে মতাদর্শ ভিন্ন হলেও নাগরিকরা নিরাপদ বোধ করবে। বিএনপির ইশতেহারে উল্লিখিত ‘রেইনবো নেশন’ বা রংধনু জাতি গঠনের যে অঙ্গীকার, সেটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দাবি এখন সর্বজনীন।
নবনির্বাচিত সরকারের কাছে জনগণের দাবি, রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি স্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসন ও আমলাতন্ত্রকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা এবং বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি প্রশাসনিক কাঠামোই হবে সুন্দর বাংলাদেশের ভিত্তি।
নির্বাচনের আমেজ কাটতে না কাটতেই সাধারণ মানুষের চোখ এখন বাজারের দিকে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস দূর করা নতুন সরকারের জন্য প্রথম এসিড টেস্ট। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিশেষ করে শিক্ষিত বেকারদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি এবং পাচার হওয়া টাকা ফিরিয়ে এনে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
এবারের নির্বাচনে তরুণ বা ‘জেন-জি’ ভোটারদের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। তাদের প্রত্যাশা—মেধার মূল্যায়ন এবং বৈষম্যহীন সমাজ। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ এবং দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকার যে সংস্কার প্রস্তাবগুলো আলোচিত হয়েছে, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চায় নতুন প্রজন্ম।
একটি সুন্দর দেশ বলতে মানুষ বোঝে যেখানে কথা বলার স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত থাকবে। কোনো প্রকার ভয়ের সংস্কৃতি যেন আর ফিরে না আসে—এটাই সাধারণ নাগরিকদের চাওয়া। গুম, খুনের বিচার এবং প্রতিটি মানুষের নাগরিক অধিকার রক্ষা করাই হবে এই সরকারের অন্যতম বড় পরীক্ষা।
“বিএনপির এই বিজয় কেবল একটি রাজনৈতিক জয় নয়, বরং এটি মানুষের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার পর তারা যদি জনগণের এই প্রত্যাশাগুলো গুরুত্বের সাথে পূরণ করতে পারে, তবেই বাংলাদেশ প্রকৃত অর্থে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।”
আমানত উল্লাহ ভূইয়া লিংকন
লেখক সাংবাদিক









