ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
নাথেরপেটুয়ায় বৈশাখী মেলা পুনরায় আয়োজনের সম্ভাবনা: স্থানীয়দের আগ্রহ ও প্রত্যাশা নীরব হৃদয়ের আত্মিক জাগরণ হায় এ বিচ্ছেদ কতই না কঠিন।  নাথেরপেটুয়া শামসুল মাদ্রাসা সারাদেশে মেধা তালিকায় ৩১ ও ৫৪ তম স্থান লাভ করে আবারও শীর্ষে ঈদের আগমনী বার্তা। পবিত্র মাহে রমজান: আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও বদরের চেতনা মাহে রমাদান, আত্নগঠনের সুবর্ণ সুযোগ। ডজনখানেক নেতাকর্মীর দলত্যাগ ও অসংখ্য নেতাকর্মীর অনাস্থায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নতুন ম্যান্ডেট, নতুন পথচলা,বিএনপির কাছে জনআকাঙ্ক্ষা ও আগামীর বাংলাদেশ নিস্তব্ধ আর যানজট মুক্ত শান্ত পরিবেশ মনোহরগঞ্জের জনবহুল বেশ কিছু বাজার ও বাণিজ্য কেন্দ্র।

নারারপাড় এখনো পানিবন্দী: জনদুর্ভোগে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

নাথেরপেটুয়া প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০১:০৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫ ৬৩৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নের নারারপাড় গ্রাম দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। টানা বৃষ্টিপাত ও পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় গ্রামের প্রধান সড়কসহ আশপাশের পথঘাটে হাঁটু সমান পানি জমে রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক-ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একাধিকবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। স্কুলপড়ুয়া শিশুদের সময়মতো বিদ্যালয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ বুকসমান পানি ভেঙে পড়াশোনার চেষ্টা করছে, আবার অনেকেই বাধ্য হয়ে বিদ্যালয় বন্ধ রাখছে।

রোগী পরিবহনও এখানে বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন—
“একজন অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিতে হলে পানিতে ডুবে ঠেলাগাড়ি বা ভ্যানে তুলতে হয়। কখনো কখনো রোগীকে কাঁধে করেও নিতে হয়। এটি আমাদের জন্য ভীষণ কষ্টকর।”

অন্যদিকে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় দোকানপাট খোললেও ক্রেতা কম, বিক্রি নেই বললেই চলে। কৃষকরা ফসল মাঠে নিতে পারছেন না, পশুখাদ্যের সংকটও দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসীর আক্ষেপ, প্রায় তিন বছর আগে এই রাস্তাটি সরকারি টেন্ডারের আওতায় আনা হয়েছিল। শুরুতে রাস্তা বক্স করে কিছু কার্যক্রমও চালানো হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ঠিকাদার কাজ অসমাপ্ত রেখেই সরে যান। ফলে অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় রাস্তা পড়ে থাকায় পানি নিষ্কাশনের পথ আরও বন্ধ হয়ে গেছে এবং দুর্ভোগ দ্বিগুণ হয়েছে।

এমতাবস্থায় এলাকার তরুণ সমাজের দাবি, দ্রুততম সময়ে পানি নিষ্কাশনের চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাস্তা মেরামত, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং খাল পুনরুদ্ধার করা প্রয়োজন।

তারা জনদুর্ভোগ লাঘবে মনোহরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছে। তারা আশা করছে, দীর্ঘদিনের অবহেলিত এই সমস্যার সমাধানে প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করবে এবং পানিবন্দী নারারপাড়ের মানুষকে স্বস্তি ফিরিয়ে দেবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নারারপাড় এখনো পানিবন্দী: জনদুর্ভোগে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

আপডেট সময় : ০১:০৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫

মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নের নারারপাড় গ্রাম দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। টানা বৃষ্টিপাত ও পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় গ্রামের প্রধান সড়কসহ আশপাশের পথঘাটে হাঁটু সমান পানি জমে রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক-ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একাধিকবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। স্কুলপড়ুয়া শিশুদের সময়মতো বিদ্যালয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ বুকসমান পানি ভেঙে পড়াশোনার চেষ্টা করছে, আবার অনেকেই বাধ্য হয়ে বিদ্যালয় বন্ধ রাখছে।

রোগী পরিবহনও এখানে বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন—
“একজন অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিতে হলে পানিতে ডুবে ঠেলাগাড়ি বা ভ্যানে তুলতে হয়। কখনো কখনো রোগীকে কাঁধে করেও নিতে হয়। এটি আমাদের জন্য ভীষণ কষ্টকর।”

অন্যদিকে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় দোকানপাট খোললেও ক্রেতা কম, বিক্রি নেই বললেই চলে। কৃষকরা ফসল মাঠে নিতে পারছেন না, পশুখাদ্যের সংকটও দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসীর আক্ষেপ, প্রায় তিন বছর আগে এই রাস্তাটি সরকারি টেন্ডারের আওতায় আনা হয়েছিল। শুরুতে রাস্তা বক্স করে কিছু কার্যক্রমও চালানো হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ঠিকাদার কাজ অসমাপ্ত রেখেই সরে যান। ফলে অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় রাস্তা পড়ে থাকায় পানি নিষ্কাশনের পথ আরও বন্ধ হয়ে গেছে এবং দুর্ভোগ দ্বিগুণ হয়েছে।

এমতাবস্থায় এলাকার তরুণ সমাজের দাবি, দ্রুততম সময়ে পানি নিষ্কাশনের চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাস্তা মেরামত, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং খাল পুনরুদ্ধার করা প্রয়োজন।

তারা জনদুর্ভোগ লাঘবে মনোহরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছে। তারা আশা করছে, দীর্ঘদিনের অবহেলিত এই সমস্যার সমাধানে প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করবে এবং পানিবন্দী নারারপাড়ের মানুষকে স্বস্তি ফিরিয়ে দেবে।