নোয়াখালী নয় কুমিল্লা নামেই হবে দেশের নবম বিভাগ।
- আপডেট সময় : ০১:৪৮:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫ ১০৩৯ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে নতুন নতুন বিভাগ সৃষ্টির প্রক্রিয়া অনেক আগেই শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহসহ একাধিক জেলা বিভাগে উন্নীত হয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, দীর্ঘ আন্দোলন, অগণিত মানববন্ধন, গণদাবি ও যৌক্তিকতার পরও এখনো কুমিল্লাকে বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। অথচ জনসংখ্যা, ভৌগলিক অবস্থান, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, শিক্ষা ও প্রশাসনিক অবকাঠামো – সবদিক থেকেই কুমিল্লা বিভাগের যোগ্য দাবিদার।
কুমিল্লা বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগরীগুলোর একটি। এখানে রয়েছে ঐতিহাসিক ময়নামতি, লালমাই পাহাড়, শালবন বৌদ্ধবিহার, বীরশ্রেষ্ঠদের সমাধি এবং মুক্তিযুদ্ধের অগণিত স্মৃতিচিহ্ন। কুমিল্লা শুধু একটি জেলা নয়, এটি পূর্ববাংলার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, শিক্ষা-সাহিত্য-সংগীত ও ক্রীড়ার জন্যও দেশ-বিদেশে খ্যাত। বাংলাদেশের ইতিহাসে কুমিল্লার অবদান অনস্বীকার্য। প্রাচীন রাজ্য থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ, প্রতিটি অধ্যায়ে কুমিল্লা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এমন একটি জেলা নিঃসন্দেহে বিভাগীয় মর্যাদার দাবিদার।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগ অত্যন্ত বৃহৎ, যার আওতায় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুরসহ অনেকগুলো জেলা পড়ে। এত বড় ভৌগলিক এলাকা থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম এককেন্দ্রিকভাবে পরিচালনা করা অত্যন্ত জটিল। কুমিল্লা যদি আলাদা বিভাগ হয়, তবে স্থানীয় জনগণ দ্রুত প্রশাসনিক সেবা পাবে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকারিতা আসবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে।
বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চল জনবহুল ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ। কেবল কুমিল্লা জেলা থেকেই সংসদে ১১ জন সদস্য প্রতিনিধিত্ব করছেন। বৃহত্তর অঞ্চলের ৬ জেলার মোট সংসদ সদস্য সংখ্যা ৩৫ জন। এত বড় জনগোষ্ঠীর প্রশাসনিক চাহিদা পূরণের জন্য একটি স্বতন্ত্র বিভাগ অপরিহার্য।
দীর্ঘ সময় থেকে বিভাগ নিয়ে তালবাহানা করে আসা রাষ্ট্র যখন কুমিল্লাকে বিভাগ হিসেবে ঘোষণার প্রজ্ঞাপন দিয়েছে, এহেন পরিস্থিতিতে আমাদের পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী তারা প্রশাসনিক উন্নয়ন বিবেচনায় কুমিল্লা থেকে ৫০ বছর পিছিয়ে থাকলেও তারা নিজেদেরকে বিভাগ হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার জন্য আন্দোলন করে অরাজকতার চেষ্টা করছেন,
অথচ সবারই জানা,কুমিল্লা প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত দিক থেকে অনেক এগিয়ে
কুমিল্লায় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ, শিক্ষাবোর্ড, ক্যাডেট কলেজ, সেনানিবাস, বার্ড, সিটি কর্পোরেশন, স্টেডিয়াম, এয়ারপোর্ট, গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ অসংখ্য দর্শনীয় স্থান এছাড়াও কুমিল্লায় রয়েছে ইপিজেড ও ৩২টিরও বেশি বিভাগীয়/আঞ্চলিক অধিদপ্তর, যা প্রশাসনিক কাঠামো পরিচালনায় যথেষ্ট।
যা একটি পূর্ণাঙ্গ বিভাগ পরিচালনার জন্য যথেষ্ট অবকাঠামো জোগান দেয়
নোয়াখালীতে এ ধরনের অবকাঠামো ও প্রতিষ্ঠান এখনো সক্রিয় নয়। কিছু থাকলেও সীমিত পরিসরে সেবা দিচ্ছে,
অতএব, বিভাগ ঘোষণা করলে রাষ্ট্রকে নতুনভাবে কোনো বড় অবকাঠামো নির্মাণে বিলম্ব করতে হবে না, কারণ প্রয়োজনীয় সবকিছু কুমিল্লায় ইতিমধ্যেই প্রস্তুত।
বছরের পর বছর কুমিল্লাকে বিভাগ করার ঘোষণা আসলেও নানা জটিলতায় তা বাস্তবায়িত হয়নি। কখনো নামকরণ নিয়ে বিতর্ক (কুমিল্লা না ময়নামতি না মেঘনা), কখনো কিছু জেলার আপত্তি, কখনো প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক খন্দকার মোস্তাকের কথা তুলে ধরে কুমিল্লা নামে না দেওয়ার বুলি, আবার কখনো প্রশাসনিক জটিলতা—এই অজুহাতে সিদ্ধান্ত পিছিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু একই সময়ে অন্যান্য অঞ্চলের বিভাগীয় মর্যাদা বাস্তবায়িত হয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই কুমিল্লার মানুষ মনে করছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা অবহেলার কারণেই বারবার কুমিল্লা বঞ্চিত হচ্ছে।
কুমিল্লা বিভাগ শুধুই একটি দাবি নয়, এটি সময়ের অপরিহার্য প্রয়োজন। জনসংখ্যা, ভৌগলিক অবস্থান, প্রশাসনিক অবকাঠামো, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য—সবকিছুর সমন্বয়ে কুমিল্লা আজ বিভাগের পূর্ণাঙ্গ যোগ্য। তাই সরকারের প্রতি জোরালো দাবি, অনতিবিলম্বে কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করা হোক। এতে শুধু কুমিল্লা নয়, আশপাশের জেলাগুলোও উপকৃত হবে।
জনগণের বহু বছরের প্রত্যাশা পূরণে এখনই প্রয়োজন সাহসী ও কার্যকর পদক্ষেপ। কুমিল্লা বিভাগের বাস্তবায়ন হলে এটি হবে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, যা দেশের প্রশাসনিক ভারসাম্য রক্ষা করবে এবং উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
আরিফুল ইসলাম মাহফুজ
উদ্যোক্তা, আলেম ও অ্যাক্টিভিস্ট
সম্পাদক: মুক্তশব্দ অনলাইন পোর্টাল










