কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার প্রাণকেন্দ্র নাথেরপেটুয়া। দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকা উপজেলা ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন ও প্রত্যাশায় রয়েছে। নাথেরপেটুয়ার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত গুরুত্বের কারণে এ জনপদের কেন্দ্রীয় অবস্থান অপরিসীম। এ কেন্দ্রীয় জনপদের সাথে জড়িয়ে আছে একটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান—নাথেরপেটুয়া ডাকঘর।
ব্রিটিশ আমলের প্রতিষ্ঠান
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রিটিশ আমল থেকেই নাথেরপেটুয়ায় ডাকঘরের কার্যক্রম শুরু হয়। এর মাধ্যমে এলাকার মানুষ ডাক যোগাযোগ ও বিভিন্ন সেবার সাথে যুক্ত থাকে। দীর্ঘ ইতিহাসের সাক্ষী এই ডাকঘর এখনও চলছে, তবে এর অবস্থা বর্তমানে ভগ্নদশায় রূপ নিয়েছে।
ভগ্নপ্রায় ভবনে জনসেবা
ঘুরে দেখা যায়, ডাকঘরের দেয়াল ও ছাদ থেকে খসে পড়ছে চুন-সুরকি। মেঝে ও কাঠামো প্রায় ধ্বংসপ্রায় অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। বর্ষাকালে পানি ঢুকে পড়ে, অফিসকর্মী ও সেবা গ্রহণকারীরা ভোগান্তিতে পড়েন। স্থানীয়দের মতে, এটি এখন কার্যত একটি ভাঙ্গাচোরা ঘরে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, ও তরুন আলেম মাওলানা কেফায়েত উল্লাহ সাহেব "মুক্তশব্দ" কে বলেন ব্যবসায়ী “নাথেরপেটুয়া ডাকঘর শুধু একটি সেবা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি আমাদের এলাকার ঐতিহ্য। কিন্তু আজকের অবস্থায় এটি জনসাধারণের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।”
সংস্কারের দাবি
এলাকার প্রবীণরা মনে করিয়ে দেন, ডাকঘরটি নাথেরপেটুয়ার ঐতিহাসিক নিদর্শন। জরাজীর্ণ অবস্থা থেকে মুক্ত করে সংস্কার না করলে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও ডাক বিভাগের প্রতি দ্রুত উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।
স্থানীয় ব্যক্তি ও জনপ্রিয় সাংবাদিক
মো. আলমগীর হোসেন বলেন,
“ডাকঘরের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সরকারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে সংস্কার ও আধুনিকায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।”

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা
এলাকাবাসীর দাবি, নাথেরপেটুয়া ডাকঘরকে সংস্কার ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সাজালে এটি আবারো প্রাণকেন্দ্রীয় সেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নতুন মাত্রা পাবে। স্থানীয়রা আশা করছেন, সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে ঐতিহাসিক এই ডাকঘর তার মর্যাদা ও কার্যকারিতা ফিরে পাবে।